ফ্রিল্যান্সিং

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব

প্রিয় ভিউয়ার্স আপনাদেরকে আমাদের পেজে স্বাগতম। আজ আমরা আপনাদের মাঝে আলোচনা করতে এসেছি মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন এই সম্পর্কে। এই বিষয় কি আপনাদের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে।কিন্তু আশ্চর্যজনকের কিছুই নেই আসলেই সত্য মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখা সম্ভব এখনকার দিনে। আজকে থেকে অনেক বছর আগের কথা বলতেন তাহলে আমি বলতাম মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব নয়। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটারের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আধুনিক যুগ সভ্যতার যুগ দিনে দিনে আপডেট হচ্ছে ডিজিটাল যুগে এসে আমরা পৌঁছে যাচ্ছি। আর এজন্যই মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব।

অনেকেই ভাবেন মোবাইল দিয়ে শুধুমাত্র ইউটিউব, ফেসবুক এগুলো দেখা যায় । কিন্তু না মোবাইল দিয়ে আপনি আপনার আয়ের উৎস কে খুঁজে নিতে পারেন।মোবাইল একটা প্রয়োজনীয় জিনিস ।আর এই প্রয়োজন আপনি যদি আয়ের মাধ্যমে করে ফেলেন তাহলে আপনার আর ফিরে দেখাতে হবে না পিছনের দিকে। আপনার লাইফ স্টাইলটা অন্যভাবে গড়ে উঠতে পারে। এজন্য আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে এবং কাজ শিখার পেছনে আপনাকে শ্রম দিতে হবে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

আপনি এখন যদি শিখতে গিয়েই বলেন আমি কবে কখন কত টাকা ইনকাম করব আর কত তাড়াতাড়ি বড়লোক হব ধনী হব এ প্রশ্নগুলো যদি আপনার মনে থাকে তাহলে আপনি কখনোই কাজ শিখতে পারবেন না।কাজ শেখার মূল এবং প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রম দেওয়া আর মনো নিবেশ করতে হবে কাজটি মন দিয়ে শিখতে হবে।। আর কাজ শেখার পরবর্তীতে আপনি ভাবতে পারেন, আপনি কত টাকা কি উপার্জন করবেন কি করবেন না এটা ভাববেন। তবে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে আমরা আমাদের মূল পোস্টে চলে যাই।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মুক্ত একটি পেশা।অর্থাৎ আপনি মুক্তভাবে কারো অফিসে না গিয়ে নিজেই নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখে প্রকল্প আকারে যে কাজ করে থাকেন তাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং। কিন্তু বর্তমানে আমরা শুধু ফ্রিল্যান্সিং বলতে বুঝি অনলাইনের কাজ কে।অনলাইনের কাজ হচ্ছে স্বাধীন আপনার যখন মন চাইবে আপনি তখন এই কাজটি করতে পারবেন আপনি আপনার সুযোগ সুবিধার মতোই কাজ করতে পারেন এজন্য আপনাকে কোন ধরা বাধা নিয়ম দেয়া হয় না কোন সময় দেয়া হয় না। আপনি যে ক্লায়েন্টের কাজ করবেন সেই ক্লায়েন্টের সাথেই এডজাস্ট করে কাজটি করতে পারবেন। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং কি এটা জেনেই আপনাকে শিখতে হবে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন। নতুবা আপনি ফ্রিল্যান্সিং শব্দটাই জানেন না তাহলে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন।

মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অনেকগুলো ক্যাটাগরির কাজ করা যায়। তবে কম্পিউটার হলে সেই কাজগুলো করতে আপনার জন্য সুবিধা হবে। মোবাইল থেকে যে কাজগুলো আপনি করতে পারবেন সে কাজগুলো বর্ণনার নিম্নে দেয়া হলো।

১/মোবাইল দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং
২/মোবাইল দিয়ে ইউটিউব ফ্রিল্যান্সিং
৩/মোবাইল দিয়ে ব্লগিং
৪/কাস্টমার সাপোর্ট

১/মোবাইল দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং

কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য আপনার ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই ।আপনার হাতে থাকা একটি ভালো মানের এন্ড্রয়েড ফোন থাকলেই আপনি কনটেন্ট রাইটিং এর কাজটি করতে পারবেন। ভালো মানের কনটেন্ট রাইটিং করলে মার্কেটপ্লেসে আপনি প্রচুর পরিমাণে কাজ পাবেন। বর্তমানে প্রতিদিন লাখ লাখ ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। আর এগুলোতে ভালো কনটেন্ট দেওয়ার জন্য অবশ্যই ভালো কনটেন্ট রাইটারের প্রয়োজন আছে। কন্টেন রাইটিং হচ্ছে দুই ধরনের। একটা হচ্ছে বাংলা আর অন্যটি হচ্ছে ইংরেজি।

ইংরেজিতে কনটেন্ট রাইটিং করলে আপনার টাকার পরিমান বেশি আসবে আর বাংলায় কনটেন্ট রাইটিং করলে টাকার পরিমাণ কম আসবে। তবে ইংরেজিতে আপনাকে অনেক বেশি দক্ষ হতে হবে আর বাংলাতে কম বেশি দক্ষ হলেই আপনি রাইটিং এর কাজটি করতে পারবেন। আপনি কনটেন্ট রাইটিং করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর কাছে আপনার কাজ বিক্রি করে দিতে পারবেন। এজন্য আপনাকে অনেক ভালো কনটেন্ট রাইটার হতে হবে।

২/মোবাইল দিয়ে ইউটিউব ফ্রিল্যান্সিং

মোবাইল দিয়ে আপনি ইউটিউব থাম্মেল এই ফ্রিল্যান্সিং কাজটি করতে পারেন। মোবাইল দিয়ে আপনি খুব সহজে ভালো মানের ইউটিউব থাম্মেল এই কাজটি করতে পারেন। আপনি যদি মোবাইল দিয়ে একজন ইউটিউবার হন তাহলে অবশ্যই আপনি থাম্মেলের এই কাজটি করতে পারেন। যদি ইউটিউব থাম্মেল ডিজাইন করে আপনি কাজ করতে চান তাহলে প্রচুর পরিমাণ কাজ আছে মার্কেট প্লেসে।

৩/মোবাইল দিয়ে ব্লগিং

এই পদ্ধতিতে আপনাকে কাজ করতে হলে প্রথমে একটি ব্লক সাইট বানাতে হবে। বর্তমান সময়ে ব্লক সাইট বাননোর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় দুইটি প্ল্যাটফর্ম হল ওয়ার্ডপ্রেস আর ব্লগার। ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে আপনাকে একটি প্ল্যাটফর্ম বানাতে হলে প্রথমে একটি ডোমিং ও হোস্টিং কিনতে হবে। ডোমেইন হচ্ছে একটা ওয়েবসাইটের এড্রেস। আর হোস্টিং হচ্ছে ডাটা, ওয়েবসাইটে রাখার একটি স্পেস। আর অপরদিকে ব্লগার থেকে ফ্রিতে একটি ব্লগসাইট বানাতে পারবেন আপনি। এখানে আপনার কোন টাকা খরচ হবে না। ব্লগার সম্পূর্ণ ফ্রিতে আপনাকে একটি সাবডোমিন ও হোস্টিং দিবে।

৪/কাস্টমার সাপোর্ট

কাস্টমার সাপোর্ট রিলেটেড কাজ আপনি আপনার মোবাইল ফোন থেকে করতে পারেন। এই যেমন
ট্রানস্কিপশন  ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হৃদয়ের কাজ আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটির মাধ্যমে করতে পারেন। একটা কোম্পানি যাদের ফোন সাপোর্ট দরকার। তাদের কাস্টমাররা ফোন করবে একটা নাম্বারে। সে নাম্বার দিয়ে আপনি রেসপন্স করবেন। এবং তাদের সঙ্গে আপনি কমিউনিকেট করে দিবেন। তাদের কাস্টমাররা যে চাহিদা সে চাহিদা মোতাবেক আপনি সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে থাকবেন। এটা তো আপনি ঘরে বসে করতে পারেন আর বেনিফিট পেতে পারেন।

সর্ব-পরিশেষে বলতে চাই এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।আমরা এতক্ষণ চেষ্টা করছি আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন এই পোস্ট সম্পর্কে। আশা রাখছি আমাদের দেওয়া তথ্যগুলো আপনাদের কাজে লাগবে এবং আপনারা উপকৃত হবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.