গর্ভবতী মায়ের কি কি কাজ করা নিষেধ

গর্ভবতী মায়ের কি কি কাজ করা নিষেধ

প্রথমেই গর্ভবতী মা সম্পর্কে বলতে গেলে, গর্ভবতী মা একজন এমন মানুষ আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মত কাজগুলো করতে পারে না। কাজ করলে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়। একটা মা তার সন্তানের জন্য সব কাজ করার ক্ষমতা থাকলেও সন্তানের ঝুঁকি হবে এটা ভেবে কাজ করে না। মা তার গর্ভের সন্তানকে ভালোবাসে। আর সেই ভালোবাসার তাগিদে সন্তান পৃথিবীর বুকে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে ভূমিষ্ঠ হতে পারে এবং সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পরবর্তী জীবন কাটাতে পারে তার কথা ভেবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে গর্ভবতী মা বিরত থাকে।
নিম্নে আপনাদের জানানো হচ্ছে যে কি কি কাজ করলে গর্ভবতী মহিলার ঝুঁকিপূর্ণ হবে তার তালিকা প্রদান করা হলো।

গর্ভবতী মায়ের কি কি কাজ করা নিষেধ

  • গর্ভবতী মা গর্ভকালীন সময়ে অর্থাৎ প্রথম তিন মাস শেষের তিন মাস অতিরিক্ত পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে । অতিরিক্ত পরিশ্রম মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
  • গর্ভকালীন সময়ে একজন মা তার শিশুর সুস্থতা রক্ষা করার জন্য ভারী জিনিস বহন করা বা তোলা থেকে বিরত থাকবে ভারী জিনিস বহন করার জন্য যে শক্তি বা ক্ষমতা শিশুর সুস্থতা বজায় রাখতে ব্যহত করে এতে করে মায়ের গর্ভে থাকতে পারে।
  • গর্ভকালীন মাতার গর্ভকালীন সময়ে নিজের জীবনের সর্তকতা অবলম্বন এ শুধু নয় তার গর্ভে থাকা শিশুটির সুস্থতা অবলম্বনে সতর্কতার সহিত স্থান থেকে হাঁটাচলা থেকে বিরত থাকবে স্থান থেকে হাঁটাচলা করার সময় গর্ভবতী মা পা ফসকে পড়ে যেতে পারে এতে করে গর্ভবতী মায়ের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বা পৃথিবীতে একটি সুস্থ  সন্তান প্রসব নাও করতে পারে।
  • গর্ভবতী মা উপরে ওঠার জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করবে কারণ সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য গর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

গর্ভবতী মায়ের করণীয়/বর্জনীয়

এখন বলতেছি গর্ভবতী মায়ের শরীরের জন্য যে কাজগুলো অতীব প্রয়োজনীয় এ বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এ সময় গর্ভবতী মা দিনের বেলায় কমপক্ষে দুই ঘণ্টা ঘুম বা এবং রাতে কমপক্ষে 8 ঘন্টা ঘুমানো উচিত। ঘুমানো বা বিশ্রামের সময় কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। গর্ভবতী মায়ের অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আরামদায়ক সহজে পরিধানযোগ্য পোশাক ও ঢিলা ঢালা পোশাক পড়া উচিত। সঠিক মাপের ও নরম জুতা পরতে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই হিল পরিহার করা উচিত। এ সময় নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করতে হবে। গর্ভকালীন মায়েদের দাঁতগুলো বেশ নরম হয়ে যায়। তাই দাঁত ও মাড়ির বিশেষ যত্ন নিতে হবে। চার থেকে আট মাসের মধ্যে অবশ্যই টিটেনাসের টিকা দিতে হবে। এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাই ইনফুলেনজা ,হাম, চিকেন পক্স ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগ আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে হবে।

গর্ভবতী মায়ের জন্য বিশেষ সতর্কতা

অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ভয় ইত্যাদি গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর তাই, এসব এড়িয়ে চলতে হবে। প্রথম দিন শেষে তিন মাস সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবেনা। পানিশূন্যতা রোধে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক।

পরিশেষে বলতে চাচ্ছি যে এতক্ষন আমাদের সাথে থেকে পোস্টটি পড়েছেন এ জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনাদের কাছে আশা করি একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য এ কাজগুলো করে গর্ভবতী মা
উপকৃত হবে।

Previous articleনরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় ও করণীয়
আমি রাতুল, এটা আমার ডাক নাম। এই নামে আমার এলাকার সবাই আমাকে চিনবে তবে বাইরের কেউ হয়তো চিনবে না। আমি বিশ্বাস করি সফলতা ভাগ্য এবং পরিশ্রমের দ্বারা নির্ধারিত। এই ব্লগটি আমি সখ করে তৈরি করেছি, এবং এটিই আমার ১ম ব্লগ। আশা করি আপনাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে উপকৃত করতে পারবো। ধন্যবাদ সবাইকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here