কবিতা

স্বাধীনতার সেরা কবিতা

প্রিয় ভিউয়ার্স আপনাদেরকে আমাদের পেজে স্বাগতম। আপনাদের সবাইকে জানাই স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনারা যারা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার সেরা কবিতা খুজতেছেন বিশেষ করে তাদের জন্যই আমাদের এই পোস্টটি। আজ আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি স্বাধীনতার সেরা কবিতা।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কবি বিভিন্ন ধরনের কবিতা লিখে উপহার দিয়েছে আমাদের দেশকে। আর সেই সব কবিতা আমাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগায় স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে জানতে।একুশে মার্চ স্বাধীনতা দিবস বলে ঘোষণা করা হয় আমাদের দেশকে মুক্ত করে দেয় পাকিস্তানিদের হাত থেকে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে হাজারো মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন হয়। স্বাধীন হওয়া একদিনে সম্ভব হয় নাই অনেক ত্যাগের বিনিময়ে হয়েছে স্বাধীন।

স্বাধীনতা সম্পর্কে বলতে গেলে শেষ হবে না। স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম যুদ্ধ আর ত্যাগের বিনিময়ে দেশ পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র। পাকিস্তানরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের মুখের বাংলা ভাষাকে।আর এ ভাষা আমাদের দেশের জনগণ বিলুপ্ত হতে দিবে না বিদায় এ ভাষার জন্য যুদ্ধ করে ।সে আর প্রতিষ্ঠিত করেছে বাংলা ভাষাকে। আজ আমরা যে ভাষায় কথা বলছি খুব মন খুলে এ ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের দেশের আত্মত্যাগের বিনিময়। স্বাধীনতা উপলক্ষে অনেকে অনেক কবিতা উপহার দিছে বাংলাদেশকে সেখান থেকে যে কবিতাগুলো পেয়েছে আমরা সেই কবিতা সম্পর্কে আপনাদেরকে আর জানাতে এসেছি আমাদের পোস্ট যে ভিজিট করলে আপনারা পেয়ে যাবেন সেরা কবিতা স্বাধীনতার তবে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

১/ কবিতা : স্বাধীনতা এই শব্দটি আমাদের কিভাবে হল

কবি: নির্মলেন্দু গুন
একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য। অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে লক্ষ লক্ষ শ্রোতা বসে আছে। ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে বসে আছে কখন কবি আসবে বলে। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে সবাই। এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না। বৃক্কে ফুলো ছবিতে উদ্যান সেদিন ছিল না। সেদিন ছিল না এই তন্দ্রা স্বর্ণ বিকেল। এভাবেই লিখে গেছে কবিরা স্বাধীনতার কবিতা আর তার তাৎপর্য আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

২/কবিতা : একটি পতাকা পেলে

কবি :হেলাল হাফিজ
কথা ছিল একটি পতাকা পেলে ।আর লিখব না বেদনা অঙ্কুরিত কষ্টের গান। কথা ছিল একটি পতাকা পেলে। শীতের সকালে পাতা কুড়ানো মেয়েটি ওম নিভে বাড়িতে। কথা ছিল একটি পতাকা পেলে। সব দুঃখ জমা দিব যৌথ খামারে। আমার কথা ছিল একটি পতাকা পেল ভূমিহীনরা গাইবে  সাম্যের গান। এভাবেই কবিরা লিখে গেছে স্বাধীনতার কবিতা তার তাৎপর্য আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

৩/কবিতা : তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা

কবি :শামসুর রহমান
এ স্বাধীনতা তোমাকে পাবার জন্য কত রক্ত গঙ্গায় ভাসতে হয়েছে। তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা আছো সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো।হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে ।শহরের বুকে দানবের গাড়ি এলো চিৎকার করতে করতে। আর তখনই ছাত্রবাস থেকে উত্তেজনা শহরে বেরিয়ে এলো ছাত্র দলেরা। স্বাধীনতা তুমি আসবে বলেই, অবুঝ শিশুরা পিতা-মাতার লাশের উপর হামাগুড়ি দিচ্ছিল। হে স্বাধীনতা তোমাকে পাবার জন্য অনাথ কিশোরী শূন্য হাতে বসে আছে। এভাবে স্বাধীনতার কবিতা লিখে গেছে কবিরা তার তাৎপর্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

৪/কবিতা : স্বাধীনতার উলঙ্গ কিশোর

কবি :নির্মলেন্দু গুণ
জননীর নাবি মূল ছেড়ে উলঙ্গ শিশুর মতো বেরিয়ে আসছে ।পথে স্বাধীনতা তুমি দীর্ঘজীবী হও স্বাধীনতা আমার অস্তিত্বে স্বপ্নে।।প্রাত্যহিক বাহুর পেশীতে জীবনের রাজপথে বসেছিলেন মিছিলে তুমি বেঁচে থাকো। তুমি দীর্ঘজীবী হও সূর্যাস্ত অবধি হরতাল ছিল একদিন ।ছিল ধর্মঘট ছিল কারখানার চিহ্ন রাখে। এভাবেই কবিরা স্বাধীনতার কবিতা লিখে গেছেন আর তার তাৎপর্য আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো।

৫/কবিতা : স্বাধীনতা তুমি

কবি :শামসুর রহমান
স্বাধীনতা তুমি ,রবি ঠাকুরের অজর কবিতা।স্বাধীনতা তুমি ,কাজী নজরুলের যাত্রা চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ। স্বাধীনতা তুমি ,শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারীর উজ্জ্বল সভা। স্বাধীনতা তুমি, পতাকা শোভিত স্লোগান। স্বাধীনতা তুমি ,ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।স্বাধীনতা তুমি, রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার। এভাবেই কবিরা স্বাধীনতার কবিতা লিখে গেছেন।

৬/ কবিতা : উচ্চারণ গুলির শোকের

কবি :আবুল হাসান
লক্ষ্মী বউকে আজ আমি কোথাও দেখি না। হাটি হাটি শিশুটিকে কোথাও দেখি না। কতগুলো রাজা হাস দেখি নরম শরীরে ভরা রাজা হাস দেখি। কতগুলো মুখস্ত মানুষ দেখি  কিন্তু সেই বউটিকে আর শিশুকে দেখিনা। তবে কি সেই বৌউটি রক্তে যুদ্ধে গেল ছোট ভাইটি কেউ আর দেখি না ।নরম নোলক পড়া বোনটি কেউ দেখি না  কেবল দেখি পতাকা।
এভাবেই কবিরা স্বাধীনতার কবিতা লিখে গেছেন।

৭/কবিতা : অস্ত্রসমর্পণ

কবি:হেলাল হাফিজ
মরণ অস্ত্র মনে রেখো ভালোবাসা তোমার আমার।৯মাস বন্ধু বলে জেনেছি তোমাকে কেবল তোমাকে বিরোধী নিধন শেষে কতদিন অকারণে। তাবুর ভেতরে ঢুকে দেখেছি তোমাকে বারবার কতবার। মনে আছে আমার জ্বালার বুক তোমার কঠিন বুকে রাখতেই গর্জে ওঠে তুমি। এস্ফোরণে প্রকম্পিত করা ও আকাশ আমাদের ভালোবাসা মুহূর্তে লুফে নিতে অত্যাচারী শত্রু নিঃশ্বাস। মনে পড়ে তোমার কঠিন নলে তন্দ্রার কপালের মধ্যভাগ রেখে বুকে হাত।

সর্বশেষে বলতে যাচ্ছি যে ,এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।আমরা এতক্ষণ চেষ্টা করেছি, স্বাধীনতার সেরা কবিতা আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য।জানিনা কতটুকু নিতে পারছি তবে আশা রাখছি ,আমাদের দেওয়া পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে।

তবে আজ আর নয় আবার অন্য কোনদিন অন্য কোন পোস্টে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আপনাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.